নিজস্ব সংবাদদাতা গোপালগঞ্জ।।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী করার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মনোনীত এই নেত্রীর নাম সুবর্ণা ঠাকুর, যিনি বর্তমানে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন নেত্রীর নাম ঘোষণা করে। এই তালিকায় সুবর্ণা ঠাকুরের নাম থাকায় গোপালগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং পেশায় একজন শিক্ষক।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ১ জানুয়ারি গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে স্থান পান। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই কমিটির তালিকায় তার নাম ২৭ নম্বরে রয়েছে।
একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি কি আদৌ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন নাকি সরাসরি বিএনপির সদস্য হয়ে এই মনোনয়ন পেয়েছেন?
এই মনোনয়নের ফলে দলের ভেতরে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা। জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, “দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?
টিটো বৈদ্য নামক আরেকজন এটিকে বিএনপির “দৈন্য” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পৌর বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, ত্যাগী নেত্রীদের উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের পদে থাকা কাউকে মনোনয়ন দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
অন্যদিকে দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন জানিয়েছেন, মনোনয়নটি ব্যক্তিগতভাবে দলপ্রধান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে দেয়া হয়েছে, তাই তারা একে স্বাগত জানাচ্ছেন। এছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার সুযোগ নেই, তাই তারা এটি মেনে নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের কমিটিতে এখনো বহাল আছেন কি না বা পদত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থেকেও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত গোপালগঞ্জের রাজনীতির মাঠে বড় ধরনের মেরুকরণ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।