May 29, 2026, 11:00 pm
শিরোনাম:
গোপালগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী মা আ.লীগের নেত্রী, মেয়ে পেলেন বিএনপির মনোনয়ন বাকেরগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং, এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ জনজীবন বিপর্যস্ত দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ৩৬ নারী প্রার্থী চূড়ান্ত করছে বিএনপি ৯ দফা দাবিতে বরিশালে ইজিবাইক-রিকশা শ্রমিকদের সমাবেশ বাকেরগঞ্জে নলুয়া ইউনিয়নে পাঁচ গ্রামের একমাত্র সড়কে জনদুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি বাকেরগঞ্জে শুল্ক-কর ফাঁকি দেয়া মজুতকৃত নকল সিগারেট জব্দ, আটক-১ বাকেরগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে গৃহবধূকে লাঞ্ছিত, বিষপান করে আত্মহত্যা বাকেরগঞ্জ গারুড়িয়া ইউনিয়নে আয়রন ব্রিজ এখন মরন ফাঁদ বাকেরগঞ্জে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি পুলিশের হাতে গ্রেফতার

কৃষক ও ভোক্তার দূরত্ব কমাতে সিলেটে কৃষকের বাজার চালু

Reporter Name

নিজস্ব সংবাদদাতা সিলেট।।
সিলেটের বাজারগুলোতে কৃষি পণ্যের সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। প্রথমবারের মতো নগরীর টিলাগড় এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে ‘কৃষকের হাট’। যেখানে কোনো দালালের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে “সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য” স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে আসবে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।

কৃষি খাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে এই হাটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন—যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমন উদ্যোগে দারুণ খুশি কৃষক, ভোক্তাসহ সবাই। সিলেটের টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, ‘এমন উদ্যোগ চালু হওয়ায় আমরা খুশি, তবে এর ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে।

সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজারের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, এ বাজারের মাধ্যমে আমরাও একটু বেশি লাভবান হবো পাশাপাশি ক্রেতারাও কম দামে কৃষি পণ্য পাবেন।’

বাজারটি বাস্তবায়নকারী সিলেট সদর উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে সপ্তাহে দুইদিন এ বাজার চালু থাকবে। পরবর্তীসময়ে ভালো সাড়া মিললে এটি প্রতিদিন চালু করা হবে। উপজেলার যে কোনো কৃষক চাইলেই এ বাজারে তার পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন বিক্রির জন্য। এক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাদকতা নেই।

সিলেট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি উপজলায় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকের হাট করার। যেখানে কৃষক তার নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে নিজে বিক্রি করবে। এরকম কোনো প্লাটফর্ম এতদিন ছিল না। কৃষকদের তাই পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হতো। এতে অনেক সময় অভিযোগ আসে যে তারা ন্যায্য মূল্য পায় না। তারা সরাসরি বিক্রির ষ্পেস পায় এরকম একটা প্লাটফর্ম করে দেওয়া। এর শুরু হিসেবে সিলেট জেলার মধ্যে এটা প্রথম চালু হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর পরামর্শ দিয়েছেন, আপাতত সপ্তাহে দুইদিন চালু রাখার। যদি সাড়া মিলে তাহলে এটা প্রতিদিন করা এবং স্থায়ী ব্যবস্থা করা।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, ‘ কৃষকের বাজার উপজেলার সব কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ তার উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘সবজির পাশাপাশি মসলা থাকবে, অনেকে বাড়িঘরে হাস মুরগি পালেন তারা ডিম নিয়ে আসতে পারেন। কেউ ডিম নিয়ে। আসা করি সবই আসবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম ‘কৃষকের বাজার’ উদ্বোধন করা হয় সিলেটে। এখানে নিরাপদ পণ্য থাকবে। কৃষক আর ভোক্তার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা এই বাজার চালুর লক্ষ্য। কম দামে ক্রেতারা পণ্য পাবেন। আবার মধ্যস্বত্ত্বভোগী না থাকায় কৃষকও কমে বিক্রি করে বেশি লাভ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘সিলেটের টিলাগড়ে এটি চালু হলেও আস্তে আস্তে আরো সুবিধামত জায়গা দেখে এই বাজার চালু করা হবে। এমনভাবে আমরা করতে চাই যাতে এটি কার্যকর ও চালু তাকে। মানুষের উপকারে আসে।