রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।।
মাতৃভূমির টানে সম্প্রতি নিজ দেশ বাংলাদেশে ঘুরতে গিয়েছিলেন, মহসিন তালুকদার টিপু নামে এক মার্কিন নাগরিক। তখন তিনি তার চির আনন্দদায়ক শখের নেশায় বাংলাদেশে এখনো ছড়িয়ে থাকা পথ কলি হিসেবে পরিচিত ছিন্নমূল শিশুদের সাথে একটি ছবি তুলতে যান। শিশুরাও তখন তাকে ঘিরে তাদের মতো ভাব-ভঙ্গিতে এই রকম একটি ছবি টিপুকে উপহার দেন। এসময় শিশু গুলো টিপু’র মতো একজন মানবিক ও নির-অহংকার আমেরিকার মানুষের সাথে ছবি তোলা ও তার আদর-সোহাগ আর খানাপিনা পেয়ে বেজায় খুশী হন।
এদিকে এই একটি দূর্লভ ছবি টিপু তার নিজ আইডি অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। যা প্রবাসী বাংলাদেশী ও ভিনদেশীয়দের মাঝে রীতিমতো নানান আলোচনার জন্ম দেয়। আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু চলছে মূলত, বাংলাদেশের এই শিশুদের দূরন্তপনা যেন প্রবাসী সহ সকলেকেই এক মুহুর্তের জন্য হলেও আনন্দে মাতোয়ারা করার কত-ই না রসালো কথা। বলাবাহুল্য, মহসিন তালুকদার টিপু বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। একেবারে ছোট বেলায় আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং পড়াশুনাও অত্যন্ত সফলতার সহিত বিদেশের মাটিতে সম্পন্ন করে উচ্চতর ডিগ্রী নেন।
এখন তিনি স্ত্রী,কন্যা ও বাবা-মা নিয়ে মিশিগানেই বহু বছর যাবত বসবাস করছেন। ইতিমধ্যে তিনি রিয়েলেটর ও রেষ্টুরেন্ট সহ নানান ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডেও জড়িত হয়ে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। বিশেষ করে তার অমায়িক ব্যবহার,কমিউনিটি ও প্রতিটি বাজ্ঞালী পরিবার,বিদেশী নাগরিকদের সাথে সখ্যতাপূর্ণ সাবলিল সম্পর্ক বজায় রাখায় মিশিগান সহ বিভিন্ন রাজ্য জড়ে রয়েছে সুখ্যাতি। এছাড়া যারাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে পড়ালেখা বা পারিবারিকভাবে নতুন আসেন,তাদেরকে হাসিমুখে সর্বপ্রকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে টিপু প্রশংসা ও দোয়া কুড়াচ্ছেন।
বাংলাদেশের হবিগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা শহরে বেশী সময় কাটানোর কারনেও এই টিপু তালুকদারের রয়েছে বিভিন্ন মহলে বেশ গ্রহণযোগ্যতা।
এই টিপু প্রতি বছর বাংলাদেশে যান শুধু নিজ মাতৃভূমির নারীর টানে। এসময় তিনি এমন কিছু অদ্ভুত ছবি,ভিডিও শখের বসে নিজ ক্যামেরায় বন্দী করেন এবং কিঞ্চিৎ কখনো কখনো দু’একটি ফেইসবুক তার আইডিতে আপলোড করেন,যা রীতিনতো হৈ চৈ ফেলে দেয়। কিছু দিন আগেও টিপু বাংলাদেশে গিয়ে একজন প্রকৃত রিক্সাচালক বনে ঢাকার রাজপথে সময় কাটান,ছবি তুলেন, একজন রিক্সাচালকের কষ্ট অনুভব করেন নিজেকে এমন ভাবে তৈরী আর পরিশ্রম করে।সেই সাথে শিশুদের হোটেলে নিয়ে পেট ভরে খাইয়ে।
ওই শিশুদের সাথে শখে তোলা এহেন ছবিটিও যেন প্রবাসীদের কাছে দূরন্তপনা টিপু ও এ শিশুরা বিশ্ব দরবারে এখন বাংলাদেশকে নতুন এক আনন্দ খোরাকের উপহার হিসেবে সূচনা ঘটালো।
শুধু তাই নয়,বিপরীতে ছবিটি এও জানান দিল যে, ছিন্নমূল শিশুরা এখনো বই-খাতা আর কলমের পরিবর্তে এক অজানা ভবিষ্যৎত জেনেও সড়কেই দিন রাত কাটাচ্ছে। সরকার আসে,সরকার যায়,কিন্তু ওদের মতো জরাজীর্ণ শিশুদের কয়জনের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। এৃন ছবি বিশ্বের সামনে প্রকাশ পেলে ভাবমূর্তির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ শুধু নয়,বরং চৌখের পানি ধরে রাখাও অসম্ভব।
তাই টিপু তালুকদারের মতো মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন প্রবাসী বা দেশী বিত্তশালী ব্যক্তিরাই এখন এমন শিশুদের বেঁচে থাকার আনন্দ ও শেষ সম্বল হতে পারে।