সিলেট প্রতিনিধি।।
সিলেটেও ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হামের সংক্রমণ। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ২৬ মার্চ থেকে নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের একটি ইউনিটকে আইসোলেশন কেন্দ্র করা হয়েছে। এখানে তিনদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ রোগী। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালে ১৯ জন ভর্তি আছে।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এখানে ২৬ মার্চ থেকে তিনদিনে ৩০ জন ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে ১৪ জন বাড়ি ফিরেছে। রোববার তিনজন নতুন করে ভর্তি হয়েছে।
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই প্রথমদিকে ওসমানীতে আলাদা আইসোলেশন করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হয়। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ইউনিটকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই আইসোলেশন সেন্টারেই সিলেটের হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা উন্নত না করলে পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে। একই সঙ্গে টিকা নেয়ার পরও অনেক শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন তারা।
সম্প্রতি হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও সিলেটে এ রোগের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে রাজধানী ঢাকার ওপর। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা পাঠানো হয় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে, যেখানে একমাত্র ল্যাবে হামের পরীক্ষা করা হয়।
এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হামের নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। চূড়ান্ত ফলাফল পেতে অন্তত সাত দিন সময় লাগে। এসময় রোগীদের আইসোলেশনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, জেলায় এখনো ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু ছাতক উপজেলায় একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।